বরগুনা জেলায় ডেঙ্গু ও হাম রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এই দুটি রোগের কারণে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৭১ জন। গত এক দিনে হামে আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা ১৬ জন।
জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিতভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার ওপর চাপ বাড়ছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে রোগীর তুলনায় শয্যার সংখ্যা কম থাকায় অনেক রোগীকেই হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রোগী ও তাদের স্বজনদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আব্দুস সালাম জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতায় ভুগছি। পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এখন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।
সদরের বুড়িরচর এলাকার আরেক ডেঙ্গু রোগী সবুজ বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। বেড পেতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
বরগুনা পৌর শহরের বড়তলা এলাকার জামাল হোসেন বলেন, রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর ভর্তি করিয়েছি। কিন্তু বেড না থাকায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীকে নিয়ে এভাবে থাকা খুবই কষ্টকর।
এদিকে, হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। নলটোনা এলাকার ছয় বছর বয়সী শিশু রাকিবের মা ছালমা বেগম বলেন, শিশুর জ্বর ও শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার পর আল্লাহ মালিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশু চিকিৎসক মেহেদী পারভেজকে দেখিয়েছি। পরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। এখন চিকিৎসা চলছে।
হামে আক্রান্ত আরেক শিশুর স্বজন সওগাতুল ইসলাম বলেন, শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। হামের কারণে শিশুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত সুস্থতার জন্য চিকিৎসা চলছে।
বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. আশিকুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে জ্বর হলে অবহেলা করা যাবে না। পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে নিজে থেকে কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, হামের ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগের জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ফুলের টব, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ।