পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। শিশুদের মাঝে সততার চর্চা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘সততা স্টোরের’ অর্থসহ মোট ১১টি বৈদ্যুতিক ফ্যান চুরি হয়েছে বিদ্যালয়টি থেকে।

গত রোববার সকালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পৌঁছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি লক্ষ্য করেন। শিক্ষকদের ধারণা, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার দিবাগত রাতের মধ্যবর্তী সময়ে কোনো এক মুহূর্তে এই চুরি সংঘটিত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষকেরা নিয়ম অনুযায়ী তালা দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। রোববার সকালে তাঁরা পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে দেখেন, তালাগুলো আগের মতোই লাগানো ছিল। তবে চাবি দিয়ে খোলার সময় তাঁরা লক্ষ্য করেন যে, তালাটি ভেঙে অত্যন্ত কৌশলে হালকাভাবে লাগিয়ে রাখা হয়েছিল। কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, অফিস কক্ষের চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যান গায়েব। এছাড়া দ্বিতীয় তলার দুটি শ্রেণিকক্ষ থেকেও সাতটি ফ্যান খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। এর পাশাপাশি শিশুদের সততা স্টোরের বাক্সে জমা রাখা প্রায় ৫০০ টাকা এবং সাউন্ড সিস্টেমের বক্সটিও চুরি করা হয়েছে।

শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কয়েক বছর আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততার চর্চা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই ‘সততা স্টোর’ চালু করা হয়েছিল। সেখানে মুড়ি, বিস্কুট ও চানাচুরের মতো বিভিন্ন শুকনো খাবার রাখা হতো এবং প্রতিটি খাবারের দাম নির্দিষ্ট করে লেখা থাকত। টিফিনের বিরতিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো খাবার নিয়ে তার মূল্য একটি প্লাস্টিকের বাক্সে রেখে দিত। সেই বাক্সে জমা হওয়া প্রায় ৫০০ টাকা নিয়ে গেছে চোরেরা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পারভীন আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, “শিক্ষার্থীরা গরমে কষ্ট পাওয়ায় ফ্যান কেনা হয়েছিল। সেগুলো চুরি হয়ে গেল। শিশুদের সততা স্টোরের টাকা এবং কাব স্কাউটের শিশুদের জমানো চাঁদার টাকাও চোর নিয়ে গেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।”

বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক হারুন অর রশীদ জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্থানীয়দের কাছে শুনেছি, বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকাটা ফাঁকা হওয়ায় এখানে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন প্রকার মানুষ আড্ডা দেয়।”

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”