পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১টি ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা বিদ্যালয় থেকে একটি সাউন্ড সিস্টেম এবং সততা স্টোরে জমা রাখা কিছু টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে শিক্ষকরা যখন বিদ্যালয়ে পৌঁছান, তখন তারা অফিসকক্ষটি সম্পূর্ণ এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। কক্ষের ভেতরে থাকা টেবিলে জুতার ছাপ পাওয়া যায়। এরপর শ্রেণিকক্ষগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, মোট চারটি কক্ষ থেকে ১১টি ফ্যান গায়েব। এর মধ্যে অফিসকক্ষ থেকে চারটি এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষ থেকে সাতটি ফ্যান চুরি করা হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় চোরেরা সেখানে একটি স্ক্রু ড্রাইভার ফেলে গেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, “প্রতিদিনের মতো সকালে বিদ্যালয়ে এসে তালা খুলে অফিসকক্ষ এলোমেলো দেখতে পাই। টেবিলে জুতার ছাপ ছিল। পরে ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখি চারটি ফ্যান নেই। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষেও গিয়ে আরও সাতটি ফ্যান পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও নিয়ে গেছে চোরেরা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ছুটির পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ফাঁকা হয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি শুনেছিলেন যে, বেশ কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আড্ডা ও মাদক সেবনের ঘটনা ঘটছে। তবে চুরির সঙ্গে ঠিক কারা জড়িত, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এই বিষয়ে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে বিষয়টি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা যখন ফ্যানের সুইচ দিচ্ছিল এবং ফ্যানগুলো ঘুরছিল না, তখন ওপরের দিকে তাকিয়ে তারা লক্ষ্য করে যে ফ্যানগুলো নেই। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ছাড়া শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বাবা রমেন চন্দ্র রায় বলেন, “সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে জানতে পারি ১১টি ফ্যান চুরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত শুরু করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।