পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদল শাখার দপ্তর সম্পাদক সাকিব আল হাসান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুই ব্যবসায়ীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মনিরুল ইসলাম (২৫) বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার আল আমিন হাওলাদার (৩০) প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, গত রোববার রাত ১১টার দিকে তিনি ওষুধ বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকায় সাকিব আল হাসান তাঁর পথরোধ করেন। সাকিব তাঁর মুঠোফোনটি কয়েক দিনের জন্য ব্যবহার করতে চাইলে মনিরুল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই সাকিবের সহযোগীরা তাঁকে সড়ক থেকে তুলে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নিয়ে যান।
মনিরুলের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে তিনি জড়িত আছেন—এমন কথা বলতে বাধ্য করে তাঁর ভিডিও করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। রাত তিনটার দিকে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার আল আমিনকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে মনিরুলকে পুনরায় মারধর করা হয়। অবশেষে গতকাল সোমবার সকালে সাকিব ও তাঁর সহযোগীদের এক লাখ টাকা দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সময়ে মনিরুলের মুঠোফোন, ওষুধ বিক্রির ২২ হাজার টাকা এবং আল আমিনের ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাকিব আল হাসান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “গত রোববার রাত একটার দিকে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর বসতঘরে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মনিরুল ইসলামকে এলাকাবাসী আটক করেন। মূলত নারীঘটিত অভিযোগটি আড়াল করতে মনিরুল ইসলাম ও আল আমিন তাঁর ওপর নির্যাতন, মুঠোফোন ও টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছেন।”
মনিরুলের বড় ভাই মো. লিমন মাহামুদ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, মনিরুলকে গাছের সঙ্গে বেঁধে কয়েকজন ব্যক্তি মারধর করছেন। সোমবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়।
এই বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া আহমেদ জানান, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে। তিনি আরও বলেন, “তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”