পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আহত করা এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ছাত্রদল নেতা মো. শফিকুল ইসলাম ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে আসামিদের দাবি ভিন্ন; তাদের মতে, ড্রেজার স্থাপনের জন্য মামলার বাদী শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খলিল জোমাদ্দার ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দুমকি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. শফিকুল ইসলাম ইমরান ওই গ্রামের মো. জলিল হাওলাদারের ছেলে। তিনি সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উক্ত মামলায় তিনি ২ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর সকালে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান জমাদ্দার (৫৬) স্থানীয় তালতলী বাজারে অবস্থান করছিলেন এবং ফোনে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ছাত্রদল নেতা রাকিব হাওলাদার ওরফে কসাই রাকিব ও শফিকুল ইসলাম ইমরানসহ আরও ৪-৫ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা আহত খলিল জমাদ্দারকে উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী খলিল জমাদ্দার বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে দুমকি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, হামলার সময় তার পকেটে থাকা ২১ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্তরা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। মামলার ১ নম্বর আসামি মো. রাকিব এই ঘটনার বিষয়ে পাল্টা বক্তব্য দিয়ে বলেন, “ছাত্রদলের কয়েকজন বালুর ড্রেজারের লাইন বসাতে গেলে বিএনপি নেতা খলিল জোমাদ্দার বাধা দেন এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে তিনি রাস্তায় পড়ে আহত হন। তাকে কেউ পিটিয়ে আহত করেনি।”

একই দাবি ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইমরান ও রাকিব পৃথকভাবে ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যে ব্যক্ত করেন। সেখানে তারা জানান, ড্রেজার লাইন নেওয়ার আগেই তারা খলিল জোমাদ্দারকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় খলিল জোমাদ্দারের কাঙ্ক্ষিত চাঁদার বাকি দেড় লাখ টাকা দিতে তারা অস্বীকৃতি জানান। আর এই বিষয় নিয়েই কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিপত্তি ঘটে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”