বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা চার লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবার একটি বিশাল চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অত্যাধুনিক থার্মাল ইমেজার প্রযুক্তির সাহায্যে চোরাকারবারিদের গতিবিধি শনাক্ত করে এই বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করা হয়। তবে বিজিবির সদস্যদের ধাওয়া খেয়ে মাদক পাচারকারীরা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) ভোরবেলায় ৩৪ বিজিবির তুমব্রু বিওপির একটি বিশেষ টহলদল সীমান্তের নয়াপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, তুমব্রু বিওপির দায়িত্বপূর্ণ পশ্চিমকুল রুহুলের দোকান-কাটাপাহাড় সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে পাচারকারীদের। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম কায়রুল আলমের বিশেষ নির্দেশনায় তুমব্রু বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয় এবং নজরদারি শুরু করে।
রোববার ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে অত্যাধুনিক থার্মাল ইমেজারের মাধ্যমে বিজিবি সদস্যরা কয়েকজন চোরাকারবারির সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পান। তৎক্ষণাৎ বিজিবির পাঁচ-ছয়জন সদস্য তাদের ধাওয়া করলে পাচারকারীরা নিজেদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে পানির মধ্য দিয়ে দ্রুত মিয়ানমারে পালিয়ে যায়। এই দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার কারণে চোরাকারবারিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে লুঙ্গিতে মোড়ানো তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগগুলো খুলে ভেতরে চার লাখ ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা পাওয়া যায়।
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম কায়রুল আলম বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”