হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলমের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ আবেদন দাখিল করেন বগুড়া-২ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আবু নসর মো. আলমগীর হোসাইন।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনী প্রচার যখন তুঙ্গে তখন পরাজয় নিশ্চিত জেনে জামায়াত প্রার্থী ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে মাঠ ছাড়ার কৌশল খুঁজছেন।
জামায়াতের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলম সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন। সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ না করেই তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, যা নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য কারণ। এ ছাড়া সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালক পদে থাকার তথ্য তিনি হলফনামাতেও গোপন করেছেন। মনোনয়নপত্রে তথ্য গোপন করে তিনি মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করেছেন।
অভিযোগকারী জামায়াত নেতা আবু নসর মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী কোনো প্রার্থী হলফনামায় তথ্য গোপন বা মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করলে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য।
তথ্য গোপনের বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম দাবি করেন, বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালক পদ দুটি অলাভজনক। এ পদে তিনি কোনো বেতন–ভাতা বা সম্মানী পান না। সংবিধানের ৬৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি অলাভজনক পদের যে সংজ্ঞা আছে, তাতে বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালক পদ অন্তর্ভুক্ত। তাই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী উক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের পদে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো বাধা নেই।
জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বিসিক এবং বিআরটিসির পরিচালক পদে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সেই অভিযোগ প্রতীক বরাদ্দের পর রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষে এখন আর আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী এখন আর কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের এখতিয়ার রিটার্নিং কর্মকর্তার নেই। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিপক্ষের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইলে তাঁকে এটা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কিংবা আদালতে যেতে হবে।






