যুক্তরাষ্ট্রের বই বিক্রয় বাজারের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান বার্নস অ্যান্ড নোবেল জোসেফ-বেথ বুকসেলার্সের দুটি শাখা অধিগ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে কেনটাকির লেক্সিংটনের 'দ্য মল অ্যাট লেক্সিংটন গ্রিন' এবং ওহাইওর সিনসিনাটির 'রুকউড প্যাভিলিয়ন'-এ অবস্থিত জোসেফ-বেথের দুটি বইয়ের দোকান এবং সেই সঙ্গে থাকা বিস্ত্রোগুলো এখন থেকে বার্নস অ্যান্ড নোবেলের মালিকানায় চলে যাবে।
বার্নস অ্যান্ড নোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমস ডন্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এটি প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় বই বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের ঘটনা। এর আগে ২০২৪ সালে ডেনভারের ট্যাটার্ড কভার নামক একটি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়াত্বের আবেদন করার পর সেটি কিনে নেয় বার্নস অ্যান্ড নোবেল। পরবর্তী বছর তারা বে এরিয়ার জনপ্রিয় বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বুকস ইনক ডট অধিগ্রহণ করে নিজেদের পরিধি আরও বিস্তৃত করে।
ল্যাংলি প্রপার্টিজের মালিক এবং জোসেফ-বেথের বর্তমান চেয়ারম্যান ও মালিক রবার্ট ল্যাংলি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে এবং ব্যবসায়িক গতি বজায় রাখতে এই দুটি দোকান বিক্রি করা প্রয়োজন ছিল।
পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৮৬ সালে নিল ও মেরি বেথ ভ্যান উমের হাত ধরে জোসেফ-বেথের যাত্রা শুরু হয়েছিল। চার দশকের দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক অনেক উত্থান-পতনের মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৭ সালে টেনেসির ডেভিস-কিড বুকসেলার্সের চারটি দোকান অধিগ্রহণের পর জোসেফ-বেথের বড় আকারের বইয়ের দোকানের সংখ্যা বেড়ে ৭টিতে দাঁড়িয়েছিল।
তবে সময়ের সাথে সাথে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের উত্থান এবং বড় আকারের বইয়ের দোকানগুলোর ব্যাপক প্রসারের ফলে প্রতিষ্ঠানটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এর ফলে তারা একের পর এক শাখা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে জোসেফ-বেথ দেউলিয়াত্বের আবেদন করে। পরবর্তীতে নিলামের মাধ্যমে ল্যাংলি প্রপার্টিজ বর্তমানে চালু থাকা দুটি দোকান কিনে নেয়।
এই অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে বার্নস অ্যান্ড নোবেলের প্রধান নির্বাহী জেমস ডন্ট বলেন, ‘জোসেফ-বেথ বুকসেলার্সের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে এবং অসাধারণ দুটি বইয়ের দোকান। এগুলোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিশেষ করে এই দুটি বইয়ের দোকানের বই বিক্রেতাদের আমাদের প্রতিষ্ঠানে স্বাগত জানানোর জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’