বান্দরবানের লামায় অবস্থিত মিরিঞ্জা ভ্যালির একটি অবকাশ যাপনকেন্দ্রে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলার লড়াই শুরু হয়েছে। হামলার শিকার রিসোর্টের মালিক পক্ষ আদালতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ২৫-২৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, বিপরীত পক্ষটি বৃহস্পতিবার রাতে রিসোর্টের মালিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে।

এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আজ শনিবার রাতে লামা পর্যটন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেকুল মাওলা অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ হামলার ঘটনায় মামলা নেয়নি, আদালতে গিয়ে তাঁদের মামলা করতে হয়েছে। অথচ যাঁদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, তাঁরা এক সপ্তাহের পর একই ঘটনায় হামলার শিকারদের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে মামলা করেছেন।”

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে একদল লোক মিরিঞ্জা ভ্যালির রয়েল হিল রিসোর্টে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় রিসোর্টের নারী কর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। রিসোর্টের মালিক রাসেল চৌধুরীর অভিযোগ, হামলাকারীরা রিসোর্টের আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে এবং নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। রাসেল চৌধুরী জানান, ঘটনার পরপরই তিনি মামলা করতে থানায় গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাঁর মামলা গ্রহণ করেনি। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি ২৮ সেপ্টেম্বর লামার সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মো. সুলতান (৫৫), মো. জাফর (৩৮), মো. আইয়ুব (৩৫), আরিফ (৩৬) এবং শাহাদাতসহ (৪৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, আসামিরা ওই জায়গাটি তাদের বলে দাবি করে রিসোর্টটি দখলের উদ্দেশ্যে ২৫-২৬ জন লাঠিসোঁটাধারী লোক নিয়ে হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, জাফর আলম ও মো. সুলতান এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, রিসোর্টটি তাঁরাই করেছিলেন এবং এখনো পরিচালনা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাসেল চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০-৩০ জন লোক তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাঁরা বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাসেল চৌধুরী তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা থানায় মামলা করতে বাধ্য হন। এই মামলায় রয়েল হিল রিসোর্টের মালিক রাসেল চৌধুরী, শিশির স্বপন চাকমা, তাঁর স্ত্রী সঞ্চিতা চাকমা এবং মো. শাহাবুদ্দিনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লামা পর্যটন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেকুল মাওলা আরও জানান, জাফর ও সুলতানদের সঙ্গে জায়গা নিয়ে আইনি লড়াই চললেও গত কয়েক বছর ধরে রয়েল হিল রিসোর্টটি রাসেল চৌধুরী ও সঞ্চিতা চাকমার যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হয়ে আসছিল। তাঁর দাবি, জাফর ও সুলতান দিনের আলোতে হামলা চালিয়ে রিসোর্টটি দখল করতে চেয়েছিলেন, যা একটি অন্যায় কাজ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, পুলিশ প্রথমে ভিকটিমদের মামলা নেয়নি এবং আদালতে মামলা করার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করার পরিবর্তে তারা উল্টো পাল্টা মামলা করেছে। বর্তমানে হামলার শিকার ব্যক্তিরা আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এই বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, রিসোর্টে হামলা হয়েছে তা সত্য, তবে ওই সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে এবং উভয় পক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়েছেন। মামলা না নেওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, উভয় পক্ষকে প্রথমে বসে মীমাংসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তাই শুরুতে মামলা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে রিসোর্টের মালিক আদালতে মামলা করেছেন এবং সেই মামলার তদন্ত চলছে। অপর পক্ষও একটি মামলা করেছে। এখন বিষয়টি আদালতের মাধ্যমেই মীমাংসা হবে বলে তিনি জানান।