রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে এক অদ্ভুত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আজাদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি স্কুলটিতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এবং প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, বিদ্যালয়ের মাঠের ফাঁকা জায়গায় তিনি কলাগাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিকে কাজে লাগিয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আজাদ আলী তাঁর ছেলে এবং ভাতিজাকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে আগে থেকেই যে তালা লাগানো ছিল, তার ওপর তিনি আরও একটি নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর প্রধান ফটকটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন এবং বিদ্যালয়ের আঙিনার ভেতরে বিভিন্ন স্থানে কলাগাছের চারা রোপণ করেন।

সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকটি বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকানো রয়েছে এবং ভেতরের খোলা জায়গায় বেশ কয়েকটি কলাগাছের চারা লাগানো হয়েছে।

নিজের এই কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দাতা সদস্য আজাদ আলী বলেন, “উক্ত জায়গায় একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। পাশাপাশি আমার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়নি এবং তাদের চাকরিও দেওয়া হয়নি। এ কারণেই আমি বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে কলাগাছ রোপণ করেছি।”

তবে আজাদ আলীর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা। তাঁর দাবি, আজাদ আলী কোনো শর্ত ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে জমি দান করেছিলেন। পরবর্তীতে চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাথে তাঁর একটি সমঝোতা হয়েছিল এবং এই বিষয়ে কমিটির রেজুলেশনও রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক আরও জানান, জমি এবং প্রতিষ্ঠানের নামকরণ নিয়ে বিরোধের কারণে আজাদ আলী ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তিনি বিদ্যালয়ে তালা মেরেছেন এবং বাঁশের বেড়া দিয়েছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, দাতা সদস্যের দাবিটি সঠিক নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চলমান আছে। ইতোমধ্যে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদনও প্রদান করেছে।