নড়াইলের খাল-বিল ও জলাশয়ে একসময় দেখা যেত এক অনন্য দৃশ্য। জালের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ভোঁদড়কে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরার এক বিশেষ রীতি ছিল এখানে। তবে সময়ের পরিক্রমণে মাছ ধরার পদ্ধতিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে শত বছরের এই প্রাচীন ঐতিহ্য।
নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের বাসিন্দা রওজক বিশ্বাস এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন বাপ-দাদার আমলের এই পেশাকে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তার পরিবারে প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্য চলে আসছে।
বাপ-দাদার কাছ থেকেই ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার বিশেষ কৌশল রপ্ত করেছেন রওজক। তিনি জানান, পানিতে জাল ফেলার পর প্রশিক্ষিত ভোঁদড়কে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরা হয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি ভোঁদড়কে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রণের কৌশল আয়ত্ত করেছেন।
তবে রওজক বিশ্বাস জানান, আগের মতো এখন আর খাল-বিলে মাছের প্রাচুর্য নেই। মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় তার আয়ও হ্রাস পেয়েছে। ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করলেও এই পেশায় টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে মাছ ধরার পদ্ধতি বদলে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের কাছে ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি এখন অনেকটাই অপরিচিত। এই কারণে নিজের সন্তানদের এই পেশায় যুক্ত করতে চান না রওজক।
একসময় নড়াইলের জলাশয়গুলোতে ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরা ছিল অত্যন্ত পরিচিত দৃশ্য। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষের প্রচেষ্টায় এই শত বছরের ঐতিহ্য টিকে আছে। সময়ের সাথে এই পদ্ধতি বিলুপ্ত হলে গ্রামীণ বাংলার এক ব্যতিক্রমী সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।