গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রে টিকতে না পেরে জাল গুটিয়ে শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনসহ উপকূলের বিভিন্ন মৎস্য বন্দর ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত এই ট্রলারগুলো নিরাপদে নোঙর করে আছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগরে বিশাল ঢেউ আছড়াতে শুরু করলে জেলেররা মাছ ধরতে না পেরে সাগর থেকে ফিরতে বাধ্য হন। আবহাওয়া অধিদপ্তর গভীর নিম্নচাপের কারণে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করেছে এবং সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। সাগরে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। এ অবস্থায় উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে কয়েকশ ফিশিং ট্রলার মঙ্গলবার রাত থেকে রায়েন্দা, রাজৈর, বাগেরহাটের কেবি মৎস্য বন্দর, মহিপুর, খেপুপাড়া, নিদ্রাসখিনা ও পাথরঘাটাসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু ছোট ফিশিং ট্রলার বুধবার বিকেলেও উপকূলে ফিরে আসছিল।"

শরণখোলার রাজৈর মৎস্য ঘাটের আড়তদার কবির হোসেন জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসা ফিশিং ট্রলারগুলো এখন মৎস্য বন্দরে নোঙর করে আছে।

সুন্দরবনের দুবলা অস্থায়ী জেলে পল্লীর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, "বৈরী আবহাওয়ার কারণে বর্তমানে গভীর সাগরে কোনো ফিশিং ট্রলার নেই। ইতোমধ্যে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে কয়েক শ ফিশিং ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে। প্রবল ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে দুবলারচর এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতও হচ্ছে।"

সাগর উপকূলের দুবলার মেহেরআলী লাইটহাউসের কর্মী সবুজ হাওলাদার জানান, গভীর নিম্নচাপের কারণে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার সাথে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সাগরে মাছ ধরতে না পেরে কয়েকশ ফিশিং ট্রলার সুন্দরবন উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছে। সুন্দরবনের মেহেরআলী খালেও অনেক ফিশিং ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।

বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ছেন। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে শত শত ফিশিং ট্রলার উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে।