জাপানজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার দ্রুত বিস্তার এবং জ্বর-কাশির প্রকোপে উদ্বেগ বাড়ছে দেশটির মানুষের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বছর স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম শুরু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে সতর্কসীমা ছাড়িয়ে গেছে।
গত শুক্রবার জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের সবকটিতেই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্তের সংখ্যা সতর্কসীমার উপরে অবস্থান করছে। এটি দেশজুড়ে সংক্রমণের দ্রুত বিস্তারেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার পর্যন্ত এক সপ্তাহে গড়ে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছেন। সারা দেশের প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও আগের সপ্তাহে আক্রান্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোর প্রবণতা অনুযায়ী এই হ্রাস সাময়িক হতে পারে।
সংক্রমণের হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ওকিনাওয়া প্রিফেকচার। সেখানকার প্রতিটি চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীর হার মোট জনসংখ্যার ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা নির্ধারিত সতর্কতার মাত্রা ৩০ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া সাইতামায় ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ, ইবারাকিতে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, আইচিতে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং গিফুতে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এই প্রিফেকচারগুলোতে রোগীর হার ১০ শতাংশের সতর্কসীমা ছাড়িয়েছে।
ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ কমাতে সাধারণ মানুষকে হাত ধোয়া এবং কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মতো মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ১৯৯৯ সালে হিসাব রাখা শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো এ বছর এত আগে ‘ফ্লু মৌসুম’ শুরু হয়েছে। গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর জাপানে আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারিত সাপ্তাহিক সীমা ছাড়িয়েছিল, কিন্তু এবার মৌসুমটি গতবারের চেয়ে প্রায় এক মাস আগেই শুরু হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে জাপানে বছরজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৯ সালে সবচেয়ে আগে ফ্লু মৌসুম শুরু হয়েছিল, যখন ১০-১৬ আগস্ট রোগীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।