সরকারি কাজে কোনো ভুল হলে তা নির্দ্বিধায় তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে প্রস্তুত এবং ভুলগুলো ধরিয়ে দিলে তা সংশোধনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সমালোচনার ছলে মিথ্যা তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ জানান তিনি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অডিটোরিয়ামে অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। উক্ত সভায় মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আবদুল মঈন খান বলেন, "গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের কাজে কোথাও ভুল হলে সেটি তুলে ধরতে হবে। সরকার সেই ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।"
সরকারি সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত ও সম্মানজনক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যেতে হবে।
অন্যদিকে, সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে কেবল উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, "ইতিমধ্যে গড়ে তোলা অবকাঠামো ঠিক রাখতে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য মাঠপর্যায়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক তহবিল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা দরকার।"
দেশে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধন করে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়াতে হবে, যাতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এলাকাভিত্তিক পৃথক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম জানান, বড় শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে এবং ছোট পৌরসভা ও উপজেলায় কম খরচে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। বর্জ্যকে সমস্যা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।