নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় এক মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ পাঁচ কিশোরীর মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ বছর বয়সী লামিয়ার মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ লামিয়ার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
সুলতান মাহমুদ বলেন, "লামিয়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল। তার শরীরের ৫৫ শতাংশ ‘ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্ন’ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্য দুই শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন।"
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই ঘটনায় দগ্ধ ১১ বছর বয়সী আতিয়া এবং পরদিন বুধবার সকাল ছয়টার দিকে ১৪ বছর বয়সী জিদনী আক্তার মারা যান। লামিয়ার মৃত্যুর ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট তিন কিশোরীর প্রাণ গেল।
গত শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফতুল্লার কাশিপুরের হাজীপাড়া এলাকায় অবস্থিত মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসার তিনতলা ভবনের ছাদে খেলছিল ছাত্রীরা। সেই সময় ছাদের ওপর দিয়ে যাওয়া ১ লাখ ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের তারে স্পর্শ করায় পাঁচ কিশোরী দগ্ধ হয়। দগ্ধ বাকি দুজন হলেন ১২ বছর বয়সী সুমাইয়া ও ১০ বছর বয়সী আছিয়া।
ঘটনার পরপরই গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় পাঁচ কিশোরীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর্যায়ক্রমে আতিয়া, জিদনি এবং সর্বশেষ লামিয়ার মৃত্যু হয়েছে।