আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবের এই বিশেষ সময়ে পাহাড়ঘেরা খাগড়াছড়িতে প্রতিমা তৈরিতে চরম ব্যস্ততা পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা হস্তান্তরের লক্ষ্যে দিনরাত পরিশ্রম করলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছেন এই শিল্পের কারিগরেরা। জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উৎপাদন খরচ বাড়লেও প্রত্যাশিত সম্মানী না পাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের অভিযোগ, আগের তুলনায় প্রতিমা তৈরির উপকরণ, শ্রমিকের মজুরি এবং আনুষঙ্গিক খরচ অনেক বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে প্রতিমা তৈরির সম্মানী বাড়েনি, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী এই পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগররা চরম আর্থিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছেন।
খাগড়াছড়ির শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মৃৎশিল্পী বাবলু দে বলেন, "আগে প্রতিমা তৈরির কাজ করে যে সম্মানী পেতাম, তা দিয়ে আমাদের ভালোমতো সংসার চলত। কিন্তু বর্তমানে প্রতিমা তৈরির সম্মানীর তুলনায় শ্রমিকের মজুরি, কাজের গুণগত মান উন্নয়ন এবং আনুষঙ্গিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেকটা বেড়েছে। ফলে যে টাকা প্রতিমা তৈরিতে সম্মানী পায়, তা দিয়ে খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।"
তিনি আরও জানান, বিগত ২০ বছর ধরে তিনি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে বছরের বাকি সময়ে তেমন কোনো কাজ থাকে না। খুব অল্পসংখ্যক দু-একটি প্রতিমার কাজ পেলে সেই সামান্য সম্মানী দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতে হয়। পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি তার আহ্বান, "সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে মৃৎশিল্পীদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং আমাদের শ্রম ও কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।"
১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে পূজা উদযাপন কমিটির কাছে তা বুঝিয়ে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন শিল্পীরা।
এদিকে প্রচলিত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় দেবীর আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়া) এবং গমন হবে নৌকায়। ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘোটকে আগমনকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়, যা বিশৃঙ্খলা, বিপর্যয় ও অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমনকে শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা পরিমিত বৃষ্টিপাত ও শস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
উৎসবের প্রস্তুতি পুরোদমে চললেও মৃৎশিল্পীদের প্রত্যাশা, তাদের দীর্ঘদিনের শ্রম, দক্ষতা ও ঐতিহ্যবাহী পেশার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন কমিটিসহ সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন।