রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ধ্বংস ও জমি দখলের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। এতে করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান। তবে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও মত দেন তিনি।
এ সময় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারি এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং জমি দখলের অভিযোগে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাম উঠে আসায় সরকার এই বিষয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে। ঘটনার সাথে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাঁর রাজনৈতিক দায় এবং ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফেরদৌসী আহমেদ। আজ বেলা পৌনে দুইটার দিকে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এই সরকারের সময়ে কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না। সরকার সব ধরনের অপরাধ দমনের চেষ্টা করে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। অপরাধ ঘটে গেলে সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হবে।"
তিনি আরও বলেন, "যেখানে অপরাধ হচ্ছে, পুলিশ তাৎক্ষণিক সেখানে যাচ্ছে, মামলা হচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার হচ্ছে। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না, গত সাত মাসে অপরাধ হয়েছে, কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। হয়তো ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে বা ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু এ সরকারের সময়ে সাত দিনে চার্জশিট হয়েছে, ১৫ দিনে বিচার হয়েছে—এমন উদাহরণ রয়েছে।"