সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত ফেরদৌসী আহমেদের পদত্যাগের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এবং কোন দল প্রার্থী দেবে এই আসনে।

জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারণ এবং ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত। জাতীয় নির্বাচনে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে এই ৫০টি আসন বণ্টন করা হয়। চলতি ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপি ৩৬টি নারী আসন পেয়েছিল, যার একটিতে ফেরদৌসী আহমেদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মিরপুরের শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইনে উল্লেখ আছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংরক্ষিত মহিলা আসন শূন্য হলে তা শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যে দল বা জোটের অনুকূলে ওই আসন বণ্টন করা হয়েছিল, সেই দল বা জোটই প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। উপনির্বাচনে ভোটারও হবেন ওই নির্দিষ্ট দলের সংসদ সদস্যরা। অর্থাৎ, এই আসন বিএনপির এবং উপনির্বাচনেও শুধু বিএনপিই প্রার্থী দিতে পারবে। যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তবে ভোট দেবেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। তবে সাধারণত সংরক্ষিত নারী আসনে একক প্রার্থী দেওয়া হয়, যাতে ভোটের প্রয়োজন হয় না। নিয়ম অনুযায়ী, উপনির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, "যদি কোনো সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেন, তিনি নারী হন বা পুরুষ, তাহলে সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে। বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবে। নির্বাচন কমিশন তখন আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ওই পদ পূরণে নির্বাচন দেবে।" তিনি আরও বলেন, "এই উপনির্বাচনেও পূর্ণাঙ্গ তফসিল দিতে হবে। তবে এখানে ভোটার হবেন যে দলের সংরক্ষিত আসন থেকে পদত্যাগকারী নারী যে দলের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, সেই দলের সংসদ সদস্যরা। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।"

ফেরদৌসী আহমেদের পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক চাপের কথা জানা যায়। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিও দেওয়া হয়েছিল।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ। ইতিমধ্যে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ‘জাতীয় সংসদের মহিলা আসন-২৩ এর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ আজ আমার অফিসে এসে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র দিয়ে গিয়েছেন এবং সংবিধানের বিধান মোতাবেক পদত্যাগ করা মাত্র তাঁর এই আসন শূন্য হয়ে গিয়েছে। আমরা এটি গেজেট করার জন্য পাঠিয়েছি। গেজেট আসার পরেই অবিলম্বে আমরা নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়ে দেব এবং আজ থেকেই এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হলো।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘সংসদের বিধান হলো এই যে এমপিরা যখন পদত্যাগ করেন, কোনো কারণ উল্লেখ করেন না।’