ফেনীর সীমান্তবর্তী এলাকার দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প’-এর পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মহুরী নদীর খেয়াঘাট তীরে এই বাঁধ নির্মাণ কাজের শুভনির্মাল ঘোষণা করেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাবো) সুত্রে জানা যায়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের একনেক অনুমোদিত এই প্রকল্পটির ব্যাপ্তি এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদীকে কেন্দ্র করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সেচের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এটি হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমবে, কৃষি ও সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো সুরক্ষিত থাকবে।

গত ২০২৪ সালে নদীগুলোর তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলে পুরো ফেনী জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। এরপর থেকেই স্থানীয় মানুষের দাবি ছিল—সীমান্ত জনপদের নদীগুলোতে রক্ষা বাঁধ তৈরি, নদী খনন এবং নিষ্কাশনের আধুনিক ব্যবস্থা করা। ঐতিহাসিকভাবে ফেনীর ১২২ কিলোমিটার বাঁধের সূচনা হয়েছিল খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে। এবার সেই প্রকল্পের আধুনিকায়ন ও টেকসই বিস্তৃত রূপ নিয়ে নতুন বাঁধের সূচনা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহাম্মেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনঃবাসন (১ম পর্যায়)’ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। একনেকে অনুমোদিত এই মেগা প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, সাড়ে ৮৩ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন, সাড়ে ১১ কিলোমিটারের বেশি নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ এবং একটি হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন (ভিপি), সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ধর্ম মন্ত্রনালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।