টানা তিন দিনের আন্দোলন ও অনশনের পর জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ৪৪ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তবে এই তালিকায় বাদ পড়েছেন মেধাতালিকায় শীর্ষস্থানীয় দুই প্রার্থী ইসরাফিল ইসলাম রতন ও শামিমা ইয়াসমিন সুমিসহ মোট সাতজন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে অনলাইনে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আন্দোলনরত ৫১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৪ জনের নাম রয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও যাদের নাম তালিকায় নেই, তারা গভীর হতাশায় ভেঙে পড়েছেন।
এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া শামিমা ইয়াসমিন সুমি এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া ইসরাফিল ইসলাম রতন।
সুমির ছোট ভাই সজিব বলেন, আমার বোনের অপরাধ কী। আমার পরিবার তো আওয়ামী লীগ করে না। তাহলে তাকে বাদ দেওয়া হলো কেন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অন্যদিকে, ইসরাফিল ইসলাম রতন কাঁদতে-কাঁদতে বলেন, আমি তো কৃষকের সন্তান। আমরা রাজনীতি বুঝি না, রাজনীতি করিও না। আমি আমার এলাকার মন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতা চাই, আমি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জামালপুরে সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৩৬ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত ছিলেন। প্রথম ধাপে ৮৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আন্দোলনের মুখে বাকি ৫১ জনের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার পর ৪৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমরা বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। এর বাইরে আমাদের কিছু করার নেই।