ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যভাগে বা আইল্যান্ডে শোভাবর্ধক গাছ কেটে স্থানীয় মানুষের সবজি চাষের যে দৃশ্য সামনে এসেছে, তা নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, যাত্রী ও চালকদের জন্য ছায়াময় পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৬ সালে সড়ক বিভাগ এই মহাসড়কের ২৬৫ কিলোমিটার এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি দেশি প্রজাতির ফুলের গাছ রোপণ করেছিল। তবে মিরসরাই, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানের সড়ক বিভাজনে বকুল, জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া-সহ শত শত বৃক্ষ বেআইনিভাবে কেটে সেখানে লালশাক, মুলাশাক, বেগুন ও বিভিন্ন লতাজাতীয় সবজি আবাদ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, অনেকাই পারিবারিক চাহিদা মেটাতে এবং এমনকি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও এসব সবজি চাষ করছেন। কিন্তু মহাসড়কের আইল্যান্ডে এভাবে বেআইনি চাষাবাদ কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নষ্ট করছে না, বরং চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুতর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধই ছিল এই ধরনের গাছ লাগানোর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ফলে বাংলাদেশের মতো সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ দেশে আপাতনিরীহ এই বেআইনি কাজের প্রাণঘাতী পরিণাম হতে পারে।
মহাসড়কে লাগানো গাছগাছালির তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোকবল নিয়োজিত থাকলেও কোনো লাভ হয়নি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। শত শত গাছ কাটা হলেও সড়ক বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অবহেলারই বহিঃপ্রকাশ।
এ ধরনের আত্মঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব স্থানে সৌন্দর্যবর্ধক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, সেখানে আবার নতুন চারা রোপণ করে আগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে এবং অন্য গাছগাছালির তদারকির দিকেও দ্রুত মনোযোগ দিতে হবে।
সবজি চাষকারীরাও সমাজের প্রান্তিকজন। ফলে তাঁদের সঙ্গে কোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে না গিয়েই এর সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। সংবাদে উঠে এসেছে, সবজিচাষিদের মধ্যে পরিস্থিতির গভীরতা সম্পর্কে অসচেতনতা রয়েছে। ফলে কেবল আইনি ব্যবস্থা বা শাস্তির ভয় দেখিয়ে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বরং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা ও সংলাপের আয়োজন করা জরুরি। সড়ক বিভাগের নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তিদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে মহাসড়কের নিরাপত্তা ও শোভা ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।