প্রতিষ্ঠানিক ব্যাংকিংয়ের আওতায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে নিয়ে আসতে এবং সেবা পৌঁছে দিতে এনআরবিসি ব্যাংক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে। বর্তমানে ১০৯টি শাখার পাশাপাশি ৪০০টি উপশাখা ও ৬২৩টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এই বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ অর্থনীতির মানুষ সহজেই ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছেন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুল আলম খান জানান, "আমাদের মূল দর্শন হচ্ছে ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। গ্রাহককে সব সময় ব্যাংকের কাছে আসতে হবে—এমন নয়।" ব্যয়সাশ্রয়ী ও সময়োপযোগী প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তারা এই লক্ষ্যে কাজ করছেন।

চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ ডিজিটাল চ্যানেলে নিয়ে আসা তাদের অন্যতম সফলতা। নারী ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণের সুযোগ তৈরি করেছেন তারা। এনআরবিসি ব্যাংকের নিজস্ব উদ্ভাবনী এলপিএস (লোন প্রসেসিং সিস্টেম) এর মাধ্যমে ঋণ আবেদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অতি স্বল্প সময়ে ঋণ পৌঁছে যাচ্ছে। ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ উদ্যোক্তাকে ঋণ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষুদ্রঋণের স্থিতি রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা।

প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পদের মান নিশ্চিত করতে ঋণের গুণগত মান, পুনরুদ্ধার ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ব্যাংকটি। মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, "২০২৬ সালের আমাদের কৌশলে খেলাপি ঋণ কমানো, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর নজরদারির বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও ডিজিটাল প্রক্রিয়া ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছি।"

সরকারি রাজস্ব সংগ্রহেও ব্যাংকটি ভূমিকা রাখছে। শাখা, উপশাখা ও এজেন্টদের মাধ্যমে কর, ভ্যাট, পাসপোর্ট ফি, বিআরটিএ ফি ও ইউটিলিটি বিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে লেনদেন বৃদ্ধি, নতুন গ্রাহক সংযোগ এবং ফি-ভিত্তিক আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স বৈধ পথে আনতে ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। দেশব্যাপী শাখা ও উপশাখায় রেমিট্যান্স সেবা জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি বিকাশের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি বাংলাদেশে বিকাশ হিসেবে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া প্রবাসফেরত ও প্রবাসীদের স্বজনদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘প্রবাস বন্ধু’ নামে ঋণ প্রকল্প চালু আছে।

‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ায় এনআরবিসি ব্যাংক ‘এক দেশ এক কিউআর, লেনদেনে বাংলা কিউআর’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কিউআর পেমেন্টের মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীরা সহজে অর্থ গ্রহণ করতে পারছেন এবং তাদের লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। এছাড়া দেশে প্রথমবারের মতো চেক ও এটিএম কার্ড ছাড়াই কিউআরের মাধ্যমে শাখা ও উপশাখার ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা উত্তোলনের সুবিধা চালু করেছে এনআরবিসি ব্যাংক।

মো. তৌহিদুল আলম খান শেষে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রযুক্তি, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্টকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।"