কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের মোট ১২ হাজারের বেশি মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলা চালানোর ঘটনা শনাক্ত করেছে মাইক্রোসফট। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, ‘ইভিলটোকেনস’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মে থাকা এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে কয়েক মাস ধরে এই হামলাগুলো পরিচালিত হয়েছিল। গোপনে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পর ব্যবহারকারীদের ই-মেইল বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতারণামূলক বার্তা তৈরিতে সহায়তা করত ওই প্ল্যাটফর্মের এআই চ্যাটবট।
গত ফেব্রুয়ারিতে টেলিগ্রামের একটি চ্যানেলের মাধ্যমে ‘ইভিলটোকেনস’ সিস্টেমের সন্ধান পাওয়া যায়। শুরুতে এই সেবা ব্যবহারের জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ৫০০ ডলার চার্জ করা হতো। মাইক্রোসফটের তথ্যমতে, ইভিলটোকেনস একটি সমন্বিত সেবা হিসেবে কাজ করত, যা ই-মেইল অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ করে দিত। অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পর এআই ভুক্তভোগীর ইনবক্সের ই-মেইল বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও সম্পর্কের তথ্য শনাক্ত করতে পারত। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার কৌশল ঠিক করার পাশাপাশি পরিচিত বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির পরিচয়ে ই-মেইল তৈরির কাজেও সহায়তা করত এআই চ্যাটবটটি।
মাইক্রোসফটের তথ্যমতে, এই ঘটনায় এআই কেবল প্রতারণামূলক বার্তা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়নি। কোন কোন ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, ভুয়া পরিচয় তৈরি এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা সম্পর্ক কাজে লাগানোর পদ্ধতি নির্ধারণেও এআই ব্যবহার করা হয়েছে। ইভিলটোকেনসের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ইভিলটোকেনসের কার্যক্রম বন্ধ করতে প্রায় ৫০টি ওয়েবসাইট অকার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া এর সহায়ক অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত আরও ১৫০টির বেশি ডোমেইন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ইভিলটোকেনসের কথিত কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার অপরাধবিষয়ক দল।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া