গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ অনেক নির্বাচিত প্রার্থী এখনও নিয়োগপত্র পাননি এবং এর পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাচ্ছেন না।

এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ নেই, তাঁদের নিয়োগ অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ও ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম আজ শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছিল। ওই পরীক্ষায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। তবে ফল প্রকাশের সাত মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর গতকাল থেকে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত নিজ নিজ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশনা পেয়েছেন।

নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘চূড়ান্ত প্রহসন’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষিত বেকারদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগও চূড়ান্ত প্রহসনের নজির স্থাপন করেছে তারেক রহমানের সরকার। গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তত এক হাজার মেধাবী তরুণের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। লিখিত ও অন্যান্য ধাপের পরীক্ষায় মেধার প্রমাণ দেওয়ার পরও তাঁদের নিয়ে দীর্ঘ আট মাস ধরে চলেছে ভেরিফিকেশনের নামে এক অনিশ্চয়তা ও হয়রানির প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত এসব তরুণকে নিয়োগপত্র না দিয়ে গভীর হতাশায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’

বাদ পড়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো ফৌজদারি মামলা বা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য না থাকাকে ‘উদ্বেগের বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘তাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া যায়নি। এরপরও কোনো স্বচ্ছ, সুস্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাঁদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরও যদি কোনো নাগরিককে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট তরুণদের প্রতি অবিচার নয়, বরং রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি জানাচ্ছি, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ নেই, তাঁদের নিয়োগ অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ও ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে। ’