আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলতি বছরে মোট দুই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মহানবমী উপলক্ষে আগামী ২০ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে ২১ অক্টোবর সাধারণ ছুটি থাকবে। তবে এই ছুটি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য রয়েছে অতিরিক্ত ঐচ্ছিক ছুটির সুবিধা, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও জরুরি সেবা খাতে ছুটির নিয়মাবলি ভিন্ন রকমের।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পূজার সময় মহানবমীর ছুটি নির্বাহী আদেশে এবং বিজয়া দশমীর ছুটি সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটির তালিকা মেনে চলা হয়, সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পূজায় মোট দুই দিন ছুটি পাবেন।

হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ছুটির ব্যবস্থা আরও বিশেষ। সরকারি ছুটির দুই দিনের বাইরে তারা আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে এই ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপঞ্জি ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে স্কুল ও কলেজগুলো ছুটি দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ছুটির সময় প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পূজার ছুটি ঘোষণা করতে পারে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো কোনো শাখা বা নির্দিষ্ট সেবা চালু থাকতে পারে। এছাড়া এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকে।

অন্যদিকে, দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি থাকলেও জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিতদের অনেককেই দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীদের ছুটির দিনেও কর্মস্থলে থাকতে হয়।

অর্থাৎ, সরকারি ছুটি থাকলেও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য একই সময়ে ছুটি প্রযোজ্য হবে না। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, সেবার ধরন ও সংশ্লিষ্ট ছুটির নীতির ওপর কর্মীদের ছুটি নির্ভর করবে।