সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (প্রাক্তন টুইটার) ক্রিয়েটর রেভিনিউ শেয়ারিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে অর্থ আয়ের জন্য কৃত্রিমভাবে ভুয়া লাইক, রিপোস্ট ও মন্তব্য যুক্ত করার অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির দাবি, অভিযুক্তরা একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেদের পোস্টের এনগেজমেন্ট বাড়িয়ে প্রতারণামূলকভাবে আয় করতেন।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের হাইকোর্ট অব জাস্টিসে দায়ের করা মামলায় বিবেক কুমার সেন এবং জামইয়াং শেরপাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এক্সের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই কনটেন্ট নির্মাতা এরই মধ্যে ২ লাখ ৬ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলার নথিতে উঠে আসে, অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টগুলো একটি নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত ছিল। একটি অ্যাকাউন্টে পোস্ট প্রকাশের পরপরই অন্য অ্যাকাউন্টগুলো থেকে একই বা প্রায় একই ধরনের বিষয়বস্তু শেয়ার করা হতো। কখনো দুটি পোস্টের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। একই শিরোনাম, চিত্র এবং এমনকি বানানের ভুলও একাধিক পোস্টে দেখা যেত, যা স্বাভাবিক ব্যবহারকারীদের যোগাযোগের ছদ্মবেশ ধারণ করত।

শুধুমাত্র পোস্ট শেয়ার করাই নয়, এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্যও অভিযুক্তরা নিজস্ব অন্যান্য অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। ফলে ব্যবহারকারীদের কাছে মনে হতো যে, তাদের পোস্টে আগ্রহ রয়েছে। এই কৃত্রিম এনগেজমেন্টের মাধ্যমেই তারা এক্সের কাছ থেকে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ আয় করেন। এক্সের ক্রিয়েটর রেভিনিউ শেয়ারিং প্রোগ্রামে বেশি এনগেজমেন্টযুক্ত পোস্ট থেকে আয় করার সুযোগ থাকলেও, গত আগস্টে এই প্রোগ্রামটি বন্ধ করে নতুন রিওয়ার্ড প্রোগ্রাম চালু করেছে কোম্পানিটি।

এনগেজমেন্ট বাড়িয়ে অর্থ আয়ের অভিযোগে এক্সের আইনি পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জুনে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে একটি ক্লিক ফার্ম পরিচালনার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। ওই মামলাতেও ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও কৃত্রিম এনগেজমেন্ট ব্যবহার করে আয়ের অভিযোগ করা হয়েছিল। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে