সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরায় পারিবারিক কবরস্থানে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে শায়িত করা হবে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ। বাড়ির সামনে পারিবারিক কবরস্থানে আগে থেকেই নতুন কবর খোঁড়া হয়েছে। স্বজনদের প্রত্যাশা, মরদেহ পৌঁছানোর পরপরই দ্রুত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।
মরিয়মের চাচি মুন্নী খাতুন জানান, তার স্বামী মিলন সরদার প্রবাসে থাকায় মরদেহ আনা এবং দাফনের যাবতীয় প্রস্তুতির দায়িত্ব তাকেই সামলাতে হচ্ছে। মরদেহ খুলনার কয়রা হয়ে সড়কপথে কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে গাবুরার বাড়িতে আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, "মরদেহ পৌঁছাতে অন্তত রাত ১২টা বাজবে। অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহের সঙ্গে ৯ জন আছেন। তারা এসে খাওয়াদাওয়া করবেন। তাদের জন্য রান্না করে রেখেছি। মরদেহ পৌঁছালে আর দেরি করব না। সব প্রস্তুত আছে। রাতেই গোসল, জানাজা শেষ করে দাফন করে দেব।"
মরিয়মের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন সরদার জানান, মরিয়ম ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় বড় হয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় আইলার পর, যখন তার বয়স দুই-তিন বছর, তখন থেকেই তিনি মূলত ঢাকায় ছিলেন। এত অল্প বয়সে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত ৮২ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রহমান বলেন, "মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকত। ঘূর্ণিঝড় আইলার পর তারা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এরপর অনেকদিন তাদের আর এলাকায় আসতে দেখিনি। মেয়েটি পড়াশোনা করত, ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিল বলে শুনেছি। এত অল্প বয়সি একটি মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে মারা গেল— কেন এমন হলো, এর কারণ বা উদ্দেশ্য কিছুই বুঝতে পারছি না।"
মরিয়মের বাড়ির পাশের বাসিন্দা সরাবান খাতুন জানান, মরিয়মের দাদা-দাদি এখনো বেঁচে আছেন এবং মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা বাড়িতে এসেছেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তার বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এই মামলায় মরিয়মের স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে, তবে মামা ওবায়দুর রহমান পলাতক রয়েছেন।