স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্য থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নিয়ে চীনের ঝেজিয়াং ওয়েইমিং এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওয়েইমিং) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রকল্পটির সম্ভাব্য বিনিয়োগ কাঠামো, কারিগরি দিক এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অন্যদিকে, চীনা প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ সংরক্ষণ গ্রুপের চেয়ারম্যান চেং উলিয়াং, সভাপতির সহকারী উ জিয়ান এবং বিনিয়োগ বিভাগের ব্যবস্থাপক হুয়াং ওয়েফেং বৈঠকে অংশ নেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এতে যুক্ত ছিলেন।

প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বৈঠকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালনার কারিগরি ধারণা, সম্ভাব্য বিনিয়োগ মডেল এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও প্রতিমন্ত্রী ও চীনা প্রতিনিধিদলের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

এ বিষয়ে পটভূমিতে জানা যায়, গত ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে জানানো হয়, ডিএসসিসির মাতুয়াইলে দক্ষিণ কোরিয়ার বি অ্যান্ড এফ কোম্পানি একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে এর।

একই বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজারে চীনের সিএমইসি গ্রুপের বিনিয়োগে বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র নির্মাণের কথা ঘোষণা করা হয়। ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার আশা করা হচ্ছে এই প্রকল্প থেকে।

অন্যদিকে, গত শনিবার রাজধানীর সোয়ারীঘাটে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কম্পোস্ট সার ও ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনার কথাও তিনি জানান।