সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিল বর্ষায় সাধারণত পদ্মফুলে রঙিন হয়ে ওঠে। প্রতিবছর এই ঋতুতে গোলাপি ও সাদা পদ্ম দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে ছুটে আসেন। তবে এবার বিলের জলে পদ্মপাতা ও আগাছার সমারোহ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত পদ্মফুলের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে অনেক দর্শনার্থী হতাশ হয়ে ফিরছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামের পাশে অবস্থিত প্রায় ৪০ বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত এই বিলটি। নিচু এলাকা হওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময় পানিতে ডুবে থাকে এটি। বোরো ধান চাষের পর বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবে এখানে পদ্ম জন্মায়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা একে ‘পদ্মবিল’ নামে পরিচিত করেন। কয়েক বছর ধরে বর্ষায় বিলজুড়ে পদ্মফুল ফোটার কারণে এর খ্যাতি আশপাশের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর কারণে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও বেড়েছিল। কিন্তু এবার সেই সৌন্দর্যের ছবি মিলছে না।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিলের বড় অংশ জুড়ে পদ্মপাতা ছড়িয়ে আছে। কোথাও কোথাও শুকনো ডাঁটা ও আগাছা দেখা গেলেও ফুলের কোনো চিহ্ন নেই। আগের বছরগুলোতে যেমন বিলজুড়ে পদ্মফুলের ছবি ছড়িয়ে পড়ত, এবার তা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমাহমুদ, রুবেল ও সোহেলসহ অনেকে জানান, কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে বিল পদ্মফুলে ছেয়ে থাকে। তবে অনেক দর্শনার্থী বিলের পানিতে নেমে ফুল ও কলি ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে ফুলের পরিমাণ দ্রুত কমে যায়। এবারও মৌসুমের শুরুতে কিছু ফুল ফুটেছিল, কিন্তু মানুষের অসচেতন আচরণ এবং প্রাকৃতিক কারণে তা কমতে থাকে।
সোনাকান্ত বিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সুমাইয়া মেহজানিম জুই বলেন, "ফেসবুকে সোনাকান্ত বিলের অনেক সুন্দর ছবি ও ভিডিও দেখেছি। চারদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম—এমন দৃশ্য দেখেই বান্ধবীদের নিয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি পদ্মপাতা আছে, ফুল নেই। আমরা ভেবেছিলাম বিলের মধ্যে গিয়ে পদ্মফুলের সঙ্গে ছবি তুলব, ঘুরব; কিন্তু সেই সুযোগই হলো না। আগের বছরের ছবির সঙ্গে এখনকার দৃশ্যের কোনো মিল নেই।"
স্থানীয়দের মতে, বিলের সৌন্দর্য মানুষকে আকৃষ্ট করলেও তাদের অসচেতন আচরণ তা নষ্ট করছে। অনেক দর্শনার্থী ছবি তোলার জন্য ফুল ও কলি ছিঁড়ে ফেলেন, কেউ কেউ পদ্মপাতা ও গাছের ওপর পা রাখেন। এতে জলজ উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, বিলটিকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে ধরে রাখতে হলে পদ্ম ও পরিবেশ রক্ষা করতে হবে এবং দর্শনার্থীদের সচেতন করা প্রয়োজন।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, "পদ্ম একটি জলজ উদ্ভিদ। পাখির মাধ্যমে পদ্মের বীজ বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে গাছের বিস্তৃতি ঘটে। অনুকূল পরিবেশ পেলে বিলজুড়ে পদ্মের বিস্তার হয়। সোনাকান্ত বিলেও পদ্মের বিস্তৃতি প্রাকৃতিকভাবেই হয়েছে। এ ধরনের জলজ উদ্ভিদ ও এর পরিবেশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে আবারও বিলটি পদ্মফুলে ভরে উঠতে পারে।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানান, বিলের সৌন্দর্য রক্ষার বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। বিলের সৌন্দর্য ও জলজ পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।