সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সরকারি খাস জমি হিসেবে ব্যবহৃত একটি খেলার মাঠ দখল করে চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সভাপতি হেকমত আলী সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, মাঠটি দখলের পর বর্তমানে সেখানে ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয়দের একমাত্র বিনোদনের স্থানটি হুমকির মুখে পড়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৈর পূর্বপাড়া গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং শুক্রবার সকালে হেকমত আলী সরকারসহ আল-আমিন সরকার, নূর মোহাম্মদ সরকার, ওমর আলী সরকার, হারান সরকার ও তোফাজ্জল সরকার একত্রে ট্রাক্টর ব্যবহার করে মাঠটি চাষ করেন। এই কর্মকাণ্ডের ফলে মাঠটি সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ওই এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের একমাত্র খেলাধুলার স্থানটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আবুল হোসেন জানান, রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি সরকারি খাসজমি। তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান গৃহহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং সেই লক্ষ্যে সেখানে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেখানে কোনো গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়নি। এরপর থেকে স্থানীয় তরুণ ও কিশোররা মাঠটিতে নিয়মিত ফুটবল ও ক্রিকেট খেলে আসছিল।

অন্যদিকে, এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হেকমত আলী সরকার এক ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের জিম্মি করে জমিটি দখল করে মাটি ভরাট করেছিল। এখন আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছি।” তিনি আরও দাবি করেন যে, জমিটি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জমিটির মালিকানা নিশ্চিত করে বলেন, “জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সাবেক চেয়ারম্যান শওকত ওসমান সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট করেছিলেন। এরপর থেকে জমিটি পড়ে ছিল এবং স্থানীয় তরুণরা সেখানে খেলাধুলা করত।” তিনি আরও জানান, সরকারি জমি ব্যক্তিগত কাজে চাষাবাদের এই বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করবেন।

এই পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।