নাসির নামের এক ডানপিটে যুবক তার খামখেয়ালি আচরণের জন্য পুরো এলাকায় পরিচিত। কখনো পাড়ার মির্জা সাহেবের বাগান থেকে ডাব চুরি, আবার কখনো স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে রেষারেষি—সব মিলিয়েই তার জীবন। তবে তার এই ‘সোয়্যাগ’ স্বভাবের কারণে সে এলাকার অনেকের কাছেই নায়ক। কিন্তু নাসিরের ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক গোপন নেশা, যাকে বলা যায় ‘ছাগলামি’। ছাগল দেখলেই সে এক অদ্ভুত উন্মাদনায় ভুগত। বিশেষ করে পূর্ণিমা রাতে খাসির রেজালা খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে অস্থির করে তুলত। এই অদ্ভুত স্বভাবের কারণে বন্ধুরা তাকে ডাকত ‘ছাগল-পাগলু’ বলে, আর তার প্রেমিকার কাছে সে ছিল কেবল ‘ছাগলু’।
গল্পে নাটকীয় মোড় আসে যখন নাসির তার প্রেমিকার বাড়ির ছাগলটি চুরি করে খেয়ে ফেলে। জানা যায়, ওই ছাগলটি ছিল চেয়ারম্যান নজরুল সাহেবের দেওয়া একটি বিশেষ উপহার। প্রেম এবং ছাগলের প্রতি এই অতিপ্রাকৃত আসক্তির টানাপোড়েন নিয়েই এগিয়ে চলে থ্রিলার ড্রামা ‘ছাগলু’।
সিনেমাটির বিশেষত্বের কথা বলতে গেলে, ছাগল চুরির দৃশ্যগুলো অত্যন্ত স্টাইলিশ এবং অ্যাকশনে ভরপুর। ছবির সংলাপগুলোও বেশ চমকপ্রদ। যেমন— ‘পাগল তো অনেকেই হয়, তোমার প্রেমে আমি ছাগল হয়েছি, ছাগল!’ এবং ‘আমি ছাগলের চাইর নাম্বার বাচ্চা, আমারে মারতে পারবে না কোনো *** বাচ্চা!’
এছাড়া ছবির গানগুলো দর্শকদের মনে দাগ কাটবে। ‘ছাগলু... থোড়াসা কারলে রোম্যান্স’, ‘সানডে দিলাম ব্ল্যাক বেঙ্গলকে, মানডে দিলাম রামছাগলকে...’ এবং ‘ছাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না...’ এর মতো গানগুলো বেশ মনমাতানো। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল ছাগল চরিত্রের অভিনয়, বিশেষ করে তার ‘ম্যা–এ–এ...’ বলে দৌড়ে পালানোর দৃশ্যগুলো।
তবে দর্শকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে; যাদের নিজস্ব পোষা ছাগল আছে, তাদের এই সিনেমাটি দেখলে মন খারাপ হতে পারে।