সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি প্রায় সাত বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেলের কার্যক্রম এখনো ঢাকার এলেনবাড়ীতে অবস্থিত ঢাকা সড়ক জোন ভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে। চানমারীতে ৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা ভবনটির উদ্দেশ্য ছিল নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীর সড়ক বিভাগের কাজ গতিশীল করা, কিন্তু প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভবনটির নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ করে। এরপর থেকেই বলা হচ্ছে কিছু ডেকোরেশন ও ইন্টেরিয়রের কাজ চলছে। প্রশ্ন হলো, ৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ভবন ব্যবহার উপযোগী করতে এত দীর্ঘ সময় লাগার কারণ কী? যদি সত্যিই সামান্য কিছু কাজ বাকি থাকে, তবে তা এত দিনেও শেষ হলো না কেন?
নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেল গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তিন জেলার সড়ক বিভাগের কার্যক্রম দ্রুত করা। অথচ সার্কেল কার্যালয় ঢাকায় থাকায় এই তিন জেলার সেবাপ্রত্যাশীদের এখনো সার্কেল পর্যায়ের কাজে রাজধানীতে ছুটতে হচ্ছে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের নামে নেওয়া এই ব্যবস্থার সুফল জনগণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুবিধার জন্য তিন জেলার বহু মানুষকে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই জনবান্ধব প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।
ভৌগোলিক যুক্তিও একই কথা বলে। সার্কেলটির আওতায় প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে, যার বড় অংশ রাজধানীর বাইরে পূর্ব ও পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলে। মাঠপর্যায়ের সড়ক তদারকি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য নারায়ণগঞ্জই অধিকতর কার্যকর অবস্থান। সেই বিবেচনাতেই যখন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, তখন কার্যালয় ঢাকায় রেখে দেওয়ার যুক্তি কী?
এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সরকারি অর্থের জবাবদিহি নিয়ে। ৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা খরচ করে নির্মিত অবকাঠামো অব্যবহৃত পড়ে থাকা অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। এর সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যয় এবং ভবনের দীর্ঘমেয়াদি অবমূল্যায়নের ঝুঁকিও যুক্ত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এই বিলম্ব কার স্বার্থ পূরণ করছে? জনগণের নয়, সরকারেরও নয়—তাহলে দায় কার?
এখন কোনো অজুহাত বা অনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নয়—চানমারীর ভবনে নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেল কার্যালয় দ্রুত স্থানান্তর করা জরুরি। বাকি কাজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি প্রায় সাত বছর ভবনটি কেন ব্যবহার করা হয়নি, সেই প্রশাসনিক ব্যর্থতারও জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার।