নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নতুন সড়ক সার্কেল কার্যালয় নির্মাণের জন্য ৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে চানমারী এলাকায় তিনতলা ভবনটি তৈরি হওয়ার পরেও সেখানে অফিস স্থানান্তর করা হয়নি। বরং কার্যক্রম এখনো ঢাকার এলেনবাড়িতে অবস্থিত ঢাকা সড়ক জোন ভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীর মানুষকে সার্কেল পর্যায়ের বিভিন্ন কাজে রাজধানীতে যেতে হচ্ছে, যা তাদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় করছে। সওজের নথি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট ঢাকা সড়ক সার্কেলকে বিভক্ত করে নতুন নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে সার্কেল কার্যালয় নির্মাণের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সওজের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন সার্কেল গঠনের উদ্দেশ্য ছিল নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীর সড়ক বিভাগের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা। কিন্তু সার্কেল কার্যালয় ঢাকায় থাকায় তিন জেলার সেবাপ্রত্যাশীদের ঢাকায় গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ১০ বছর আগে নারায়ণগঞ্জ সার্কেল অফিস অনুমোদন পেয়েছে। ৭ বছর আগে ভবন নির্মাণ হলেও সেটির এখনো কার্যক্রম শুরু করেনি। এই অফিস চালু হলে বহু মানুষের ভোগান্তি কমবে।
এই পরিস্থিতিতে গত ২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেল কার্যালয় ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে স্থানান্তরের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, শহরের চানমারী এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে নতুন সড়ক সার্কেল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনো সেখানে অফিস স্থানান্তর করেননি।
আবেদনে আরও বলা হয়, অফিসটি নারায়ণগঞ্জে স্থানান্তর করা হলে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাতায়াতের পরিবর্তে তিন জেলার কয়েক হাজার মানুষের রাজধানীমুখী যাতায়াত বন্ধ হবে। তিন জেলার মধ্যবর্তী অবস্থানে হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে সার্কেল কার্যালয় থাকলে মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেলের আওতায় প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের বড় অংশ রাজধানীর বাইরে পূর্ব ও পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। এসব মহাসড়ক নিয়মিত তদারকির ক্ষেত্রেও নারায়ণগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে।
ভবনের ভেতরে কিছু ডেকোরেশন ও ইন্টেরিয়রের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলেই ঢাকার এলেনবাড়ী থেকে সার্কেল অফিস নারায়ণগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে।
মামুন মাহমুদের আবেদনের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ মুক্তকণ্ঠ কে বলেন, "১০ বছর আগে নারায়ণগঞ্জ সার্কেল অফিস অনুমোদন পেয়েছে। ৭ বছর আগে ভবন নির্মাণ হলেও সেটির এখনো কার্যক্রম শুরু করেনি। এই অফিস চালু হলে বহু মানুষের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে এই অফিসের আওতাধীন এলাকা তদারক করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। বিষয়টি জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী নির্দেশনাও দিয়েছেন।"
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের চারদিকে সীমানাপ্রাচীর। ভেতরে সড়ক সংস্কারকাজের যানবাহন। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীরা।
নিরাপত্তাকর্মী মহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠ কে বলেন, "তাঁরা এখানে আটজন নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। তাঁরা অফিসটির নিরাপত্তা দেখভাল করছেন।"
ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন পড়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে সওজের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম সম্প্রতি মুক্তকণ্ঠ কে বলেন, "ভবনের ভেতরে কিছু ডেকোরেশন ও ইন্টেরিয়রের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলেই ঢাকার এলেনবাড়ী থেকে সার্কেল অফিস নারায়ণগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে।"