কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। রোববার রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান রাত ১০টা ১৫ মিনিটে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, "তিন আসামিকে রোববার বেলা তিনটার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে বিচারক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন।"
পুলিশের তথ্যমতে, জবানবন্দিতে আসামিরা অপ্রতিমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), যার বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার সানন্দা এলাকায়। তিনি ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় পড়াশোনা ছেড়ে দেন। এছাড়া অন্য দুই আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর, যাদের বয়স যথাক্রমে ১৫ ও ১৬ বছর। একজনের বাড়ি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে এবং অন্যজনের বাড়ি আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি তাঁর বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও দুই কিশোরের সম্পৃক্ততার কথা জানা যায়। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, আসামিদের জবানবন্দির পর এখন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হবে এবং এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।