বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে বামপন্থী দল ডি লিংকে (দ্য লেফট) এগিয়ে রয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোটগ্রহণ শেষে বুথফেরত ফলাফলে দেখা গেছে, দলটি সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনর্মিলনের পর এই প্রথম কোনো বামপন্থী দলের সামনে বার্লিনের মেয়র কার্যালয় দখলের সুযোগ তৈরি হলো।

তবে সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও ডি লিংকের পক্ষে এককভাবে সরকার গঠন সম্ভব নয়। তাই জোটসঙ্গী খুঁজতে হবে দলটিকে।

এআরডির বুথফেরত ফলাফল বলছে, ডি লিংকে ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পাবে। ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পাবে ২০ শতাংশ। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন দলটির পরেই রয়েছে কট্টর ডানপন্থী আলটারনাটিভে ফ্যুর ডয়েচলান্ড (এএফডি), যাদের ভোট ১৬ শতাংশ।

মেকলেনবুর্গ–ভোরপোমার্নে অবশ্য এগিয়ে এএফডি। বুথফেরত ফলাফল অনুযায়ী, দলটি ৩৭ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে। তাদের ঠিক পেছনে থাকা মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) ৩৬ শতাংশ ভোট পেতে পারে।

মের্ৎস এই রাজ্যের ফলাফলকে ‘বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বার্লিনে রোববারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ২৫ লাখ। মেকলেনবুর্গ–ভোরপোমার্নে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হয়। ঐতিহ্যগতভাবে দুই রাজ্যই বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি।

দ্য জাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে মধ্য–পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য স্যাক্সনি–আনহাল্টে এএফডির কাছে সিডিইউ বড় ব্যবধানে হেরেছে। ১৯৪৫ সালের পর জার্মানির কোনো রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দলের এটি সবচেয়ে বড় সাফল্য। এএফডির উত্থানে ইউরোপে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্যাক্সনি–আনহাল্টে এএফডি ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৮৩ আসনের পার্লামেন্টে ৩৯টি আসন লাভ করে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ৪২ আসন। একক সরকার গঠনের জন্য দলটির আরও তিনটি আসন দরকার ছিল। এখন অন্য দলের সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব নয়।

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, ক্ষমতায় আসার মাত্র ১৬ মাসের মধ্যে মের্ৎসের জনপ্রিয়তা প্রায় ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি এসপিডির সঙ্গে জোট করে সরকার পরিচালনা করছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে নিজ দলের ভেতরেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।