জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। চার বছর আগের তুলনায় এবার দলটির প্রাপ্ত ভোট দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বিপরীতে, বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে; তাদের প্রাপ্ত ভোট অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। তবে এই জয় সত্ত্বেও এএফডি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রশাসন, অভিবাসন নীতি, শিক্ষা, গণমাধ্যম, অর্থনীতি এবং নাগরিক সমাজের প্রচলিত কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

রাজ্যটির পার্লামেন্টে মোট ৮৩টি আসন রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম বা দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৪২টি ভোট পেতে হয়। এএফডি মোট ৩৯টি আসন জিতেছে, যার ফলে সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও ৩টি ভোটের প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ), সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) এবং পরিবেশবাদী গ্রিনস দল মিলে মোট ৩১টি আসন পেয়েছে। এর সঙ্গে বামপন্থী দ্য লিঙ্কে (৮ আসন) এবং বুন্ডনিস জারা ভাগেনক্নেশট (বিএসভি- ৫ আসন) যুক্ত হলে মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪টি। তাত্ত্বিকভাবে এই পাঁচ দলের জোট গঠন করে সরকার গঠন সম্ভব হলেও রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতার কারণে এমন জোট অত্যন্ত কঠিন এবং অস্থিতিশীল হতে পারে। উল্লেখ্য, সিডিইউ ইতিমধ্যে দ্য লিঙ্কের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট বা সহযোগিতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

জার্মানির আইন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে হয়। প্রথম দফায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মিললে সাত দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও ব্যর্থ হলে ১৪ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হয়।

এএফডির জন্য তৃতীয় দফার নির্বাচনে জয়ের পথ খোলা রয়েছে। এই দফায় নির্দিষ্ট ৪২টি ভোট পাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই; বরং উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে যে প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, তিনিই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। সেক্ষেত্রে বিএসভি ভোটদান থেকে বিরত থাকলে এবং সিডিইউ-এর কয়েকজন সদস্য সমর্থন দিলে ৩৯টি ভোট নিয়েই এএফডির প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন।

এদিকে এএফডি তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল, কঠোর অভিবাসন ও বহিষ্কার নীতি বাস্তবায়ন, সরকারি সম্প্রচারব্যবস্থার চুক্তি বাতিল, শিক্ষায় জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার এবং ডানপন্থাবিরোধী সংগঠনগুলোর সরকারি অর্থায়ন কমানোর কথা জানিয়েছে।