কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়ম তদন্ত করতে গিয়ে সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তাদেরকে আদালতে পাঠানোর পর বিজ্ঞ আদালত জামিন মঞ্জুর করায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব আদালত ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিনে মুক্তির আদেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) এবং কথিত পিএস মারুফ হোসেন (৩৫)। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলঙ্গী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এদিকে, হামলার অভিযুক্তদের জেলহাজতে না পাঠিয়ে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব সোমবার সকাল ১১টায় আদালত ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে। কর্মসূচিতে জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সাংবাদিক উল্লাসকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তাতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার বিষয়টি যথাযথভাবে আমলে না নিয়ে আসামিদের জামিন দেওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১১টায় সর্বস্তরের সাংবাদিকদের নিয়ে আদালত ঘেরাও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।"

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। কুমারখালী পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেসরকারি বাংলা টিভির কুমারখালী-খোকসা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাস হামলার শিকার হন। ঘটনার পর সন্ধ্যায় তিনি কুমারখালী থানায় হত্যাচেষ্টা আইনে মামলা করেন।

মামলায় কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ছেলে মো. শোভন হোসেন, এমপির চাচা আমিরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন, কথিত পিএস মারুফ হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— শিবরামপুরের শরিফুলের ছেলে রুহুল আমিন (২২), এলঙ্গী এলাকার মনসুর আলীর ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৪০), দুর্গাপুরের আলতাফের ছেলে লিটন হোসেন (৪৫), পাথরবাড়িয়ার মো. কাফির ছেলে মো. আল আমিন (২৭), এলঙ্গী এলাকার শফিকুলের ছেলে সোহান (২৬), জিয়ারতের ছেলে আল আমিন (২৬), বাদশার ছেলে সাব্বির (২৮) ও ওবাইদুলের ছেলে সাদিক (২৬)।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যা চেষ্টা আইনে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জেলার সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।