কুষ্টিয়ায় বাংলা টিভির কুমারখালী প্রতিনিধি মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক সমাজ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজ আয়োজিত মানববন্ধনে তারা স্পষ্ট বার্তা দেন, হামলার দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে সাংবাদিক সমাজ প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের ঘটনা আর যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালন জরুরি।

এর আগে, শনিবার দুপুরে কুমারখালী পৌরসভার এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন মাহবুব উল আহসান উল্লাস। তিনি কুমারখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের বডিগার্ড রুহুল আমিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এমপি আফজাল হোসেনের ভাই আনোয়ার হোসেন ও ছেলে শোভন হোসেন। এ ছাড়া মারুফ হোসেন, মো. লিটন হোসেন, মো. আল আমিন, সোহান, আল আমিন, সাব্বির, মো. আমিরুল ইসলাম ও সাদিকের নাম এজাহারে রয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, "সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নন। তারা জনগণের পক্ষে কথা বলেন। অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সংগ্রহের কারণে কোনো সাংবাদিককে হামলার শিকার হতে হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।"

তিনি আরও বলেন, "সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নন। তারা জনগণের কথা তুলে ধরেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। মামলায় যাদের নাম রয়েছে, তদন্ত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।"

মানববন্ধন পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের দপ্তর সম্পাদক ও মুক্তকণ্ঠের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এস এম মাহফুজ উর রহমান। উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের সাধারণ সম্পাদক শামিম উল হাসান অপু, সহসভাপতি মজিবুল শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ জিহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুন্নবী বাবু, সদস্য তুহিন খন্দকার, নাব্বির আন নাফিজসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিভিন্ন হাট-ঘাট ও বালু ব্যবসা ঘিরে প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রয়েছে এবং এসব বিষয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ করলে সাংবাদিকরা চাপের মুখে পড়েন। তারা বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

"প্রতিহত নয়, এবার প্রতিরোধ করা হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা মামলা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে সাংবাদিক সমাজ তার পাশে দাঁড়াবে," বলেছেন বক্তারা।

সমাবেশে আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু সতর্ক করে বলেন, "সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না। দৃশ্যমান ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে কলম থামানো যাবে না।"