বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি অভিযোগ করেছেন যে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই বিরোধী দল সব ধরনের অসহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি জানান, যেদিন সরকার শপথ গ্রহণ করে, সেদিন বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না এবং এরপরও তারা প্রতি মুহূর্তে বাধা সৃষ্টি করছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষায়িত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, "বিরোধী দল সংসদে বসে ভালো কথা বলে। কিন্তু বাহিরে গিয়ে ভালো কথা বলছে না। গত ১৭ বছর যারা অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তারা দু-এক জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে, আবার পালিয়ে যায়।" তিনি আরও বলেন, "এখন যারা বিরোধী দল আছে, আজকে তারা রংপুর যাচ্ছে ঢাকা থেকে। তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছে। তারা গ্যাসের জন্য আন্দোলন করছে, তেলের জন্য আন্দোলন করছে; যে বাংলাদেশে গ্যাস নাই, তেল নাই, তারেক জিয়াকে এখনই গ্যাস দিতে হবে, এখনই সমস্ত বিদ্যুৎ দিতে হবে। আমরা তো একটা ধ্বংসস্তূপের ওপর দায়িত্বে আসছি। আমরা এসেই কি ৬ মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সব দিয়ে দিতে পারব?"

বিরোধী দলের লংমার্চ ও রোডমার্চের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন করেন, এসব কর্মসূচিতে তেল খরচ হচ্ছে না কি? রাস্তাঘাটে মানুষের ক্ষতি এবং যানজটের ফলে অসুস্থ রোগীদের কষ্ট হচ্ছে না কি? তিনি বলেন, "তাহলে বিরোধী দল কি এটা কোনো ভালো কাজ করল? কিন্তু উনারা বারবার সংসদে বলছে তারা সরকারকে সহযোগিতা করবে। সরকারকে সহযোগিতার নমুনা যদি এই ধরনের হয়, এটা কি সহযোগিতা হলো?"

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, বিএনপিকে চাপে রেখে বিরোধী দল ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে চায়। তবে বেহেশতের কথা বলে বা ভোটের আগে টাকার বিনিময়ে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা নিয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, "এজন্য ভবিষ্যতে আমাদেরকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কোনো ধরনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও জনগণের ক্ষতি করবে, বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকার এটা মেনে নেবে না। কারণ আমরা জনগণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে এখানে এসেছি।"

৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, "৫ আগস্টের জন্য ১৭ বছর আমাদেরকে লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে। হঠাৎ করে ৫ আগস্ট আসেনি। এই ৫ আগস্ট আসার ক্ষেত্রে আপনারা-আমরা, আমাদের ছাত্র-যুবক, তরুণ-তরুণী—তারা মাঠে থেকে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করে এই প্রেক্ষাপটটা তৈরি করেছে বিদায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে আমরা এই দেশের দায়িত্ব পেয়েছি, দায়িত্ব পরিচালনা করছি।"

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, ড্যাব জেলা শাখার নেতা অধ্যাপক ডাক্তার আবদুল করিম মিঠু, ডা. ইকবাল হোসেন, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।