কক্সবাজারের সমুদ্রে গোসল করতে নেমে স্রোতে ভেসে যাওয়ায় এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া আটটার দিকে ওই পর্যটকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
নিহত পর্যটকের নাম মোফাজ্জল ইমাম ওরফে সীমান্ত (২০)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার শোলাকিয়া উপজেলার স্থানীয় ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
সি-সেফ লাইফ গার্ড প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, মোফাজ্জলসহ ৯ জনের একটি পর্যটক দল ১৬ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজার বেড়াতে আসে। তারা কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করছিল। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কলাতলী ও সুগন্ধা সৈকতের মধ্যবর্তী স্থানে সাগরে গোসল করতে নামলে স্রোতের টানে মোফাজ্জলসহ তিন পর্যটক ভেসে যান। বিষয়টি নজরে আসার পর সি-সেফ লাইফ গার্ড এবং জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত বিচকর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
মাহবুব আলম আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে দুজন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মোফাজ্জলকে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে রাত সোয়া আটটার দিকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, মোফাজ্জল ইমামের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে তাঁদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
লাইফগার্ড কর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় ১০-১২টি গুপ্তখালের সৃষ্টি হয়েছে। গোসলের সময় ঢেউয়ের তোড়ে কেউ এসব গুপ্তখালে আটকে পড়লে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গোসলে নামতে নিষেধ করে একাধিক লাল নিশানা ওড়ানো হলেও তা না মেনে পর্যটকদের অনেকেই সেখানে গোসল করতে নামেন। হোটেলমালিক ও লাইফগার্ডের দেওয়া তথ্যমতে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারের দুই দিনে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন প্রায় আড়াই লাখ পর্যটক।