প্রাণহত্যাবিরোধী বিখ্যাত শিল্পী ও বৈজ্ঞানিক লেওনার্দো দা ভিঞ্চি তাঁর জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রাণীদের প্রতি গভীর স্নেহ ও সহানুভূতি দেখাতেন। তাঁর চরম দারিদ্র্যের সময়টাতেও তিনি নিয়মিতই বাজারে যেতেন; পকেটের টানাপোড়েন সত্ত্বেও বাজার থেকে বন্দী পাখিদের কিনে পরক্ষণেই তাদের উড়িয়ে দিতেন আকাশে। প্রাণকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর সক্রিয় ধ্যান, তাঁর প্যাশান।

ভেজিটারিয়ান লেওনার্দো ঘরে ঢুকে খাবারটা খেয়েই আঁকতে বসে যেতেন আর নিমেষেই মারাত্মক সব মারণাস্ত্রের নকশা এঁকে ফেলতেন! আঁকাটুকু শেষ হওয়ামাত্রই নতুন সৃষ্টির আনন্দে এক অন্তর্গত আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠত তাঁর চোখমুখ; মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের পোর্ট্রেটও তিনি আঁকতেন গভীর বিশ্বস্ততায়। আত্মার সৌন্দর্যে মুগ্ধ লেওনার্দো এভাবেই পশুপ্রবৃত্তির অশুভত্বকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ছিলেন একজন টাইটান।

লেওনার্দোর ভিতরে ছিল এক কৃষ্ণ অর্ফিয়ুস, যে বহন করে চলত দুটি চন্দ্রনদী, যা আলো ও অন্ধকারকে নিয়ে অনন্তর বয়ে গিয়েছিল অনন্তের পানে। এই কবিতাটি রচনা করেছেন কবি কুমার চক্রবর্তী।