বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি সৌমেন্দ্র গোস্বামীর রচিত 'না পাওয়ার সাধনা আমার' কবিতাটি পাঠকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এই কবিতায় জীবনের দুঃখ-বেদনা, আকাঙ্ক্ষা এবং মানবিক সংগ্রামের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা পাঠকের হৃদয়ে এক অনন্য অনুভূতির সৃষ্টি করে।

কবিতার শুরুতেই কবি লিখেছেন: "তোমার চুম্বন ছাড়া নেই কোনো ফলস্পর্শে জেগে ওঠে প্রাণ, সাধনার জ্যোতি আকাশের দাঁত ভেঙেবিরল প্রাণের বুকে জলজাগা ভোরের মতন;"। এখানে প্রেম ও সাধনার মাধ্যমে জীবনের নতুন উজ্জীবনের কথা বলা হয়েছে। এরপর তিনি যোগ করেন, "বিবমিষা গিলে গিলে পৃথিবীর পাপাচারে জনপ্রিয় হইমহোৎসবের স্রোতে কবে একা মঞ্জরিত হবকবে সুখ, কবে হবে সঠিক বিধান"। এই অংশে সমাজের বিকৃত রূপ এবং ব্যক্তির একাকীত্বের বিষাদঘন পরিবেশ ফুটে উঠেছে।

পৃথিবীর বাস্তবতা এবং কাল্পনিক জগতের টানাপোড়েনও এই কবিতায় উপস্থিত। কবি লিখেছেন, "পৃথিবীর চিররেখা সেলুলয়েডের টানে, বন—থেকে বন হয়ে দূর বনের গহিনেরকমারি নেশা বুকে বুদ্‌বুদ তোলে"। এখানে আধুনিক সভ্যতার প্রভাব এবং প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্কের জটিলতা প্রতিফলিত হয়েছে।

কবিতার শেষাংশে কবি একটি আশাবাদী ও করুণাময় স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, "তোমার প্রার্থিত প্রাপ্য তোমারই তো আছেএসে শুধু চুমু খাও খুলে দাও ভাগ্যের বেতারমুছে দাও বেদনার রংঅন্ধকার পৃথিবীর বুকে দিব্য প্রতিমা আমার।" এই পংক্তিগুলোতে ব্যক্তিগত বেদনা থেকে মুক্তি পেয়ে একটি মহান ও পবিত্র অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে। সৌমেন্দ্র গোস্বামীর এই কবিতা বাংলা কাব্যজগতে একটি স্বতন্ত্র স্থান দখল করেছে।