রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিন্ডিকেট ও মাদক ব্যবহারের দৌরাত্ম্য রোধে পুলিশি ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামীকাল থেকেই হাসপাতালে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না। রোগী ও তাদের স্বজনদের হয়রানি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে রাশেদ খাঁন জানান, তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। কমিশনার তাকে জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি পুলিশ সদস্যদের থাকা-খাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে, তবে আগামীকাল থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব।

রাশেদ খাঁন বলেন, হাসপাতাল ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশে মাদক ব্যবহার ও সিন্ডিকেট বন্ধে পুলিশ কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সহযোগিতার প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি হাসপাতালকে জিম্মি করে সিন্ডিকেট তৈরি বা রোগীদের হয়রানির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে, যা এই দুটি খাতের প্রতি সরকারের গুরুত্বের পরিচায়ক। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবায় মানুষের আস্থা বাড়ছে।

রাশেদ খাঁন আশাব্যক্ত করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হবে, যাতে রংপুর বিভাগের রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে না হয়। এ অঞ্চলের মানুষ এখানেই আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান। পরিদর্শন শেষে রাশেদ খাঁন জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং তিনি যেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, সেই স্থান পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।