জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কাঁকড়া পিংলু উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ২৫ জন শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে তাদেরকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের পর কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে একে একে শিক্ষার্থীরা মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও বমি বমি ভাবের কথা জানান। কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এতে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা দ্রুত অসুস্থদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে দশম শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের জিনে ধরেছে—এমন প্রচার ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে ওই শিক্ষার্থীরা পরে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছিলেন। আজ পাঠদান চলাকালে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ২৫ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুন ফেরদৌসী বলেন, "দুই দিন ধরে দু–একজন করে শিক্ষার্থী হঠাৎ মাথা ঘুরে অসুস্থ হচ্ছিল। আজ দুপুর থেকে একে একে অনেক শিক্ষার্থী মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।"
শিক্ষার্থী জান্নাতুনের মা মোহাসিনা আক্তার জানান, দুপুরে ক্লাস চলাকালে মেয়ের অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন। শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরা মিলে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করচ্ছেন।
কাঁকড়া পিংলু উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "মঙ্গলবার দুপুরে দশম শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের জিনে ধরেছে—এমন প্রচারও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই শিক্ষার্থীরা পরে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছিল। আজ পাঠদান চলাকালে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ২৫ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ বোধ করে। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।"
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শ্রী তরুণ কুমার পাল জানান, বেলা পৌনে তিনটার দিকে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে আনা হয়। তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। অভিভাবকদের কেউ কেউ ঘটনাটিকে ‘জিনের আসর’ মনে করছেন। তবে চিকিৎসকদের কাছে বিষয়টি সাইকোলজিক্যাল (মানসিক) সমস্যা বলে মনে হয়েছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন জানান, কী কারণে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ অসুস্থ হলো, তা জানতে বিদ্যালয়ে একটি মেডিক্যাল টিম পাঠানো হবে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন।