নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নে এক যুবদল নেতার নামে ‘চেয়ারম্যান হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেব’—এমন বক্তব্যসংবলিত পোস্টার লাগানোর ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারগুলো দেখা যায়। পরে বিষয়টি নজরে আসার পর দেয়াল থেকে পোস্টার সরিয়ে ফেলেন বলে দাবি করেছেন ওই যুবদল নেতা।

পোস্টারে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. খোকনের ছবি ও নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে খোকনের দাবি, তাকে হেয় করতে জামায়াত ইসলামীর লোকজন এসব পোস্টার লাগিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

দেয়ালে লাগানো পোস্টারে লেখা হয়, ‘আসন্ন ১ নম্বর সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি গাঁজার ডিলার (খোকন) চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আমি কথা দিচ্ছি, আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেব।’ পোস্টারে আরও লেখা হয়, ‘বেকারদের জন্য গাঁজা ভাতা’, ‘মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড’, ‘স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই’, ‘থানা-পুলিশ আমার ভাই’, ‘উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’—এমন বিভিন্ন স্লোগান।

পোস্টারগুলোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে নানা মন্তব্য করেন নেটিজেনরা। বেলাল হোসেন অপেল নামের এক তরুণ লেখেন, ‘আর কী বলব।’ মো. রাজু নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মাদক কত এভেইলেবল হলে এমন পোস্টার করা হয়।’ সজিব মাহমুদ নামের আরেকজন লেখেন, ‘এটি প্রতিহিংসা থেকে হতে পারে।’

এ বিষয়ে মো. খোকন বলেন, ‘কিছু কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা ও অপপ্রচার করছে। আমি এরই মধ্যে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসেম বলেন, দলীয় কোন্দল ও মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের কারণে খোকনের বিরুদ্ধে অন্য কেউ এমন পোস্টার লাগিয়ে থাকতে পারে। এর সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি আরও বলেন, খোকনের ছেলে আমাদের বাড়ির একটি মেয়েকে ইভটিজিং করেছে। আমরা যদি কোনো ধরনের অপপ্রচার চালাতে চাইতাম, তাহলে তার ছেলের বিরুদ্ধে করতাম, খোকনের বিরুদ্ধে নয়। খোকন মাদকের সঙ্গে সরাসরি জড়িত—এমন অভিযোগ এলাকায় রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান রিপন বলেন, খোকন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব। তবে তিনি যদি যুবদলের কোনো পদে থেকে থাকেন, তাহলে তার কোনো ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা দায়দায়িত্বের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।