নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন একটি কূপে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ নামক কূপটিতে খনন কার্যক্রম শেষ করার পর ড্রিল স্টিম টেস্ট (ডিএসটি) পরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ পাওয়া গেছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় কূপের পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
বাপেক্সের সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক নতুন কূপে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১২ জুলাই এই কূপটির খননকাজ শুরু করা হয়েছিল। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৩ হাজার ২৯০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এই খনন প্রক্রিয়ায় ২ হাজার ৫৫১ থেকে ২ হাজার ৫৫৭ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “দুপুর ১২টার পর পরীক্ষামূলকভাবে কূপে আগুন জ্বালিয়ে ডিএসটি পরীক্ষা করা হয়। এতে গ্যাসের প্রবাহ নিশ্চিত হয়েছে। তবে কূপটিতে গ্যাসের মোট মজুত এবং দৈনিক কতটুকু গ্যাস উত্তোলন করা যাবে, তা জানতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। এ জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা ও ফলাফল বিশ্লেষণের কাজ চলছে।”
মো. মোজাম্মেল হক আরও বলেন, “কূপটিতে ভালো পরিমাণ গ্যাসের মজুত পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা। গ্যাসের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাইপলাইনের সংযোগ স্থাপন করা গেলে উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।”
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই কূপটিতে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ায় দেশে ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় একই গ্যাসক্ষেত্রের অধীনে সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ নামে তিনটি কূপ খনন করা হয়েছিল। বর্তমান নতুন কূপটি একই উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। তবে এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্র কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’।