শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামে চরম অভাবের সঙ্গে লড়াই করে জীবন কাটাচ্ছেন ৮৮ বছর বয়সী সাজু শেখ ও তাঁর ৮২ বছর বয়সী স্ত্রী নূরজাহান বেগম। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে অভাব তাঁদের নিত্যসঙ্গী। বর্তমানে বয়সের ভারে এবং অসুস্থতায় দুজনই বিপর্যস্ত। বিশেষ করে গত ছয় বছর ধরে শয্যাশায়ী নূরজাহান বেগমকে আগলে রেখেছেন সাজু শেখ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় সাজু শেখ তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে কোলে করে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁপা কণ্ঠে আল্লাহর কাছে খাবারের প্রার্থনা করছেন। এই হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যটি স্থানীয়দের নজরে আসার পর অসহায় দম্পতির সহায়তায় এগিয়ে আসেন সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। তিন ছেলের মধ্যে একজন করোনা মহামারির সময় নিখোঁজ হন। আরেক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান, যিনি বছরে খুব কমবার বাড়ি ফেরেন। ছোট ছেলে নূর ইসলাম শেরপুরে দিনমজুরি ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সংসার চালান। কয়েক বছর আগে তাঁর স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিন সন্তানের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তিনি বৃদ্ধ মা-বাবার দেখভাল করতে পারছেন না।
প্রায় ছয় বছর আগে পা পিছলে পড়ে কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ায় নূরজাহান বেগম শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। অর্থের অভাবে তাঁর সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেননি সাজু শেখ। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন সকালে স্ত্রীকে কোলে করে উঠানে নিয়ে আসেন এবং তাঁর সব প্রয়োজন মেটান। একসময় ব্যবসা করলেও এখন বয়সের ভারে সাজু শেখ আর কাজ করতে পারেন না।
ঘটনাটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক ওই দম্পতির বাড়িতে যান। তাঁদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, কম্বল ও অর্থসহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রতি মাসে খাবারের জন্য সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ‘রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামক সামাজিক সংগঠনটি ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আল আমিন জানান, তাঁদের দেড় মাসের প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ৯ সেপ্টেম্বরই ওই পরিবারে খাদ্যসামগ্রী, কাপড় ও অর্থ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "তাঁদের বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ইউএনওকে সহযোগিতার জন্য পাঠিয়েছিলাম। সোমবার পরিবারটির খোঁজখবর নিতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম।" তিনি আরও জানান, ওই দম্পতি বয়স্ক ভাতা পান এবং তাঁদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। পরিবারটির প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।