ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার সন্ধ্যায় একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি বন্ধ লিফটের কাভারিংয়ে আগুন লাগায় ভবনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আগুন ও ধোঁয়ার খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই ভবন থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। এই পলায়ন প্রক্রিয়ায় ধাক্কাধাক্কির কারণে এক-দুজন রোগী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে থাকা বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

তিনি আরও জানান, লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগায় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুন বড় না হলেও ধোঁয়ার কারণে মানুষের মধ্যে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়। ৫টি স্টেশনের মোট ১০টি ইউনিট একসঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন সুমিত সরকার বলেন, "হঠাৎ হাসপাতালে আগুন ধরে গেলে সবার মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়ে যায়। সিঁড়ি দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে সবাইকে নামতে হয়েছে। এতে অনেকে আহত হয়েছেন।"

হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, আগুন লাগা লিফটটি চালু ছিল না, তবে পাশের লিফটগুলো চলমান ছিল। আগুন ও ধোঁয়া দেখে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দু-একজন আহত হয়ে থাকতে পারেন। সন্ধ্যা সোয়া সাতটা পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ওয়ার্ডগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর রোগীদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে ফিরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ছয়তলার শিশু ওয়ার্ডের একটি গুদামঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।