ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইজিবাইক চুরির ঘটনায় চোরদের শনাক্ত করে থানায় অভিযোগ দেওয়ার দুমাস পার হলেও বাহনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এতে সংকটে পড়েছে ছাত্রপলক মল্লিক ও তার পরিবার। অসুস্থ বাবা ও বন্ধ থাকা মায়ের ক্লিনিকের কারণে সংসারের খরচ মেটাতেই তিনি এই যানবাহনটি ব্যবহার করতেন।
পলক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি এম ইউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং শহরের এম ইউ কলেজপাড়ার জয়দেব মল্লিকের ছেলে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জমানো টাকায় কেনা সেই ইজিবাইকটি ছিল চার সদস্যের পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। কিন্তু গত ৪ জুলাই সকালে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে তিন-চারজন যাত্রী নিয়ে ঝিনাইদহ শহরে যাওয়ার সময় প্রতারণার শিকার হন তিনি।
ঘটনার বিবরণে পলক জানান, শহরের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে লিটন আলী নামের এক যাত্রী গাড়িটি থামাতে বলেন এবং সবুজ শেখ নামের আরেক যাত্রী নেমে যান। কিছু সময় পর পলককে রাস্তার মোড় থেকে সবুজকে ডেকে আনতে পাঠায় লিটন। পলক সবুজকে ডাকতে গিয়ে না পেয়ে ফিরে এসে দেখেন, ইজিবাইকটি নিয়ে চোরচক্র চম্পট দিয়েছে। পরদিন ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পলক।
পরবর্তী সময়ে ২৫ আগস্ট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ১১ জন ছিনতাইকারী আটক হলে পলক থানায় গিয়ে ইজিবাইক চুরিতে সরাসরি জড়িত কুষ্টিয়ার লিটন আলী ও সবুজ শেখকে শনাক্ত করেন। ২৭ আগস্ট এই দুই আসামির নাম উল্লেখ করে থানায় আবারও অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত বাহনটি উদ্ধার করতে পারেনি।
পলকের মা রূপালী পাল আক্ষেপ করে বলেন, "ইজিবাইকটি হারিয়ে আমাদের সংসারে চরম অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। আয়ের কোনো পথ নেই, অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে। তার ওপর ঋণের কিস্তির চাপ এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট ক্লু না পাওয়া গেলেও ইজিবাইকটি উদ্ধারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।