ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর গ্রামে গরু রাখার জন্য নির্মিত ছোট্ট একটি ঘরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সোহেল। নিজের নামে এক শতক জমিও নেই, মাথা গোঁজার মতো স্থায়ী ঠিকানাও নেই অসুস্থ শরীর, স্ত্রীর দুই কিডনি নষ্ট এবং পরিবারে কোনো স্থায়ী আয়ের অভাব—এই সব মিলিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে প্রতিদিন কঠিন লড়াই করছে এই পরিবারটি।

সোহেল নিজেও গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি অকেজো হয়ে শয্যাশায়ী। একসময় ভিক্ষা করে সংসার চালালেও এখন অসুস্থতার কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসার ব্যয়, খাবারের অনিশ্চয়তা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটছে তাদের। কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো অনাহারেই দিন শেষ হয়।

এই চরম দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিষ্পাপ সন্তানদের জীবনে। ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলে অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে একটি দোকানে কাজ শুরু করেছে। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সে বয়সেই সংসারের ভারী বোঝা কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে তাকে। অন্যদিকে সাত বছরের ছোট ছেলে এখনো স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তার স্কুলে যাওয়া যেন পরিবারটির বেঁচে থাকার শেষ স্বপ্নটুকু ধরে রাখার আকুল চেষ্টা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রাজিয়া বেগম বলেন, "পরিবারটির জন্য সবার আগে একটি স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে তারা অন্তত নিরাপদে থাকার একটি ঠিকানা পেতে পারেন।"

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মাতুব্বর বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির এমন দুরবস্থা দেখে আসছি। সোহেল ও তার স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি একটি বসতঘর ও জীবিকার স্থায়ী ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান মানুষেরা এগিয়ে এলে পরিবারটির কষ্ট অনেকটাই কমতে পারে।"

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন সোহেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র ঘুরে দেখেন।

পরিবারটির মানবেতর অবস্থা দেখে ইউএনও বলেন, "সোহেলের পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঘর নেই, আবার আয়েরও কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি দেখে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তিগতভাবে তাদের প্রাথমিক আর্থিক সহযোগিতা করেছি। পাশাপাশি সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেলের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের স্থায়ী জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।"